Dhaka ১০:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিগন্যাল ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় স্টেশনটিতে দীর্ঘদিন ধরে ট্রেন ক্রসিং কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

  • প্রকাশ : ১২:০৬:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • ২৮ বার পড়া হয়েছে

মোঃ জিল্লুর রহমান: হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজীবাজার রেলওয়ে স্টেশনে বারবার সিগন্যালের কেবল চুরির ঘটনায় রেল চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। সিগন্যাল ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় স্টেশনটিতে দীর্ঘদিন ধরে ট্রেন ক্রসিং কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে নিকটবর্তী নোয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশনে, যেখানে আন্তঃনগর ট্রেনগুলোকে দীর্ঘ সময় ক্রসিংয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ফলে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এবং ট্রেনের নির্ধারিত সময়সূচি ব্যাহত হচ্ছে।রেলওয়ে সূত্র জানায়, একটি চোরচক্র নির্জন এলাকায় রেলপথের সিগন্যালিং কেবল কেটে নিয়ে যাওয়ায় শাহজীবাজার স্টেশনের সিগন্যাল ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ফলে ওই স্টেশন থেকে স্বাভাবিক পদ্ধতিতে ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব। বাধ্য হয়ে জয়ন্তিকা, পারাবত, পাহাড়িকা, কালনী এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের ক্রসিং নোয়াপাড়া স্টেশনে সম্পন্ন করতে হচ্ছে।

নোয়াপাড়া স্টেশনে অপেক্ষমান একাধিক যাত্রী জানান, অনেক সময় শুধু ক্রসিংয়ের জন্য ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকে। এতে যাত্রার সময় যেমন বাড়ছে, তেমনি গন্তব্যে পৌঁছাতেও বিলম্ব হচ্ছে। নিয়মিত যাত্রীদের অভিযোগ, কয়েক মাস ধরে এই সমস্যা চললেও স্থায়ী সমাধানের কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ আতাউল মোস্তফা সোহেল বলেন, যারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করে সিগন্যালের তার চুরি করছে, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। সিগন্যাল বিকল থাকায় রেল চলাচলের শিডিউল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রেলপথের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

নোয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার এস. এম. মনির হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শাহজীবাজার স্টেশনের সিগন্যাল ব্যবস্থা অচল থাকায় নোয়াপাড়ায় জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনের ক্রসিং করাতে হচ্ছে। ট্রেন পরিচালনা ও সিগন্যালিং সংক্রান্ত নির্দেশনা ঢাকা কন্ট্রোল রুম থেকে আসে, কেবল সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেন। সিগন্যালের কেবল চুরি হওয়ার কারণেই মূলত এই অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের দাবি, রেলওয়ের সিগন্যালিং ব্যবস্থা দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অবকাঠামো। বারবার কেবল চুরির ঘটনায় যাত্রী নিরাপত্তা ও ট্রেন চলাচলে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই দ্রুত সিগন্যাল ব্যবস্থা সচল করা, চোরচক্রকে শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি।

Share!
ট্যাগ :
সম্পাদকঃ টি·এ·কে আজাদ।


জনপ্রিয় সংবাদ

স্বচ্ছ,গতিশীলও জনমুখী বিচার ব্যবস্থা হয়েছে :আইনমন্ত্রী

যে পুরুষকে জেনিফার লোপেজ সবচেয়ে আকর্ষণীয় মনে করেন

সিগন্যাল ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় স্টেশনটিতে দীর্ঘদিন ধরে ট্রেন ক্রসিং কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

প্রকাশ : ১২:০৬:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

মোঃ জিল্লুর রহমান: হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজীবাজার রেলওয়ে স্টেশনে বারবার সিগন্যালের কেবল চুরির ঘটনায় রেল চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। সিগন্যাল ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় স্টেশনটিতে দীর্ঘদিন ধরে ট্রেন ক্রসিং কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে নিকটবর্তী নোয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশনে, যেখানে আন্তঃনগর ট্রেনগুলোকে দীর্ঘ সময় ক্রসিংয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ফলে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এবং ট্রেনের নির্ধারিত সময়সূচি ব্যাহত হচ্ছে।রেলওয়ে সূত্র জানায়, একটি চোরচক্র নির্জন এলাকায় রেলপথের সিগন্যালিং কেবল কেটে নিয়ে যাওয়ায় শাহজীবাজার স্টেশনের সিগন্যাল ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ফলে ওই স্টেশন থেকে স্বাভাবিক পদ্ধতিতে ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব। বাধ্য হয়ে জয়ন্তিকা, পারাবত, পাহাড়িকা, কালনী এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের ক্রসিং নোয়াপাড়া স্টেশনে সম্পন্ন করতে হচ্ছে।

নোয়াপাড়া স্টেশনে অপেক্ষমান একাধিক যাত্রী জানান, অনেক সময় শুধু ক্রসিংয়ের জন্য ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকে। এতে যাত্রার সময় যেমন বাড়ছে, তেমনি গন্তব্যে পৌঁছাতেও বিলম্ব হচ্ছে। নিয়মিত যাত্রীদের অভিযোগ, কয়েক মাস ধরে এই সমস্যা চললেও স্থায়ী সমাধানের কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ আতাউল মোস্তফা সোহেল বলেন, যারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করে সিগন্যালের তার চুরি করছে, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। সিগন্যাল বিকল থাকায় রেল চলাচলের শিডিউল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রেলপথের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

নোয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার এস. এম. মনির হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শাহজীবাজার স্টেশনের সিগন্যাল ব্যবস্থা অচল থাকায় নোয়াপাড়ায় জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনের ক্রসিং করাতে হচ্ছে। ট্রেন পরিচালনা ও সিগন্যালিং সংক্রান্ত নির্দেশনা ঢাকা কন্ট্রোল রুম থেকে আসে, কেবল সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেন। সিগন্যালের কেবল চুরি হওয়ার কারণেই মূলত এই অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের দাবি, রেলওয়ের সিগন্যালিং ব্যবস্থা দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অবকাঠামো। বারবার কেবল চুরির ঘটনায় যাত্রী নিরাপত্তা ও ট্রেন চলাচলে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই দ্রুত সিগন্যাল ব্যবস্থা সচল করা, চোরচক্রকে শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি।

Share!