শেখ জাহিদ বিন আজিমঃ- রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলায় এইচ,এম,শামিম রহমান জন দৈনিক আজকালের পত্রিকার পাংশা(রাজবাড়ী) প্রতিনিধি। তথ্য অধিকার আইনে কৃষি বিভাগের তথ্য চেয়ে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছিলেন বৃহওর পাংশা উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এ,এইচ,এম,শামিম রহমান জন। গত ১৩ই এপ্রিল তথ্য চেয়ে তিনি আবেদন করেন। ৫ এপ্রিল মঙ্গলবার সকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সেই আবেদনের জবাব দেওয়া হয়। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা তোফাজ্জেল হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে তথ্য পাওয়ার জন্য শামিম জনকে ৭৭৩০ টাকা ৩ দিনের মধ্যে সরকারী চালানের মাধ্যমে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ,এইচ,এম,শামিম রহমান জন তথ্য অধিকার আইন ২০০৯-এর ৮ ধারার উপধারা ১ ও ৩ অনুযায়ী কৃষি বিভাগের চার ধরনের তথ্য চেয়েছিলেন। ওই সব তথ্যের অনুলিপি পেতে এত টাকা জমা দেওয়ার কথা নয়। তথ্য অধিকার আইন,২০০৯-এর ৮ ধারার (৪) উপধারা(১) – এ বলা হয়েছে,তথ্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অনুরোধকারীকে সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক ওই তথ্যের জন্য নির্ধারিত যুক্তি সংগত মূল্য পরিশোধ করতে হবে। বিধি-৮-এ বলা হয়,লিখিত কোনো ডকুমেন্টের কপি সরবরাহের জন্য (ম্যাপ,নকশা,ছবি,কম্পিউটার প্রিন্টসহ) এ-৪ ও এ-৩ মাপের কাগজের ক্ষেত্রে প্রতি পৃষ্ঠা দুই টাকা হারে ও তদুর্ধ্ব সাইজের কাগজের ক্ষেত্রে তথ্য প্রাপ্তির অনুরোধ ফি বা তথ্যর মূল্য পরিশোধ যোগ্য হবে। শামিম জনকে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। আপনি ১৩ এপ্রিল তথ্য প্রাপ্তির জন্য অত্র দপ্তরে আবেদন করেন। সব তথ্য প্রস্তুত রয়েছে ১৫৪৭ কপি প্রতিকপি ৫ টাকা হারে ফটোকপির মূল্য পরিশোধ করতে হবে। তথ্য প্রস্তুত রয়েছে। উক্ত তথ্য প্রাপ্তির জন্য আপনি তথ্য অধিকার আইনের ৮(৪) ধারা মোতাবেক ৭ হাজার ৫০০ টাকা সরকারী চালানে জমাদান পূর্বক অত্র দপ্তর থেকে আবেদন কৃত তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। এ,এইচ,শামিম বলেন,চিঠি পেয়ে অবাক হয়েছি। পরে লিখিত আবেদন করছি, কৃষি সম্প্রচার কর্মকর্তা বরাবর করে সরকারী নিয়ম ভেঙ্গে আমি এত টাকা জমা দিতে অপারগতা প্রকাশ করা হয় এবং বিনামূল্যে তথ্য সংগ্রহের জন্য আবেদন করা হয়। তিনি স্বীকার উক্তি ও দেন ২/৩ দিনের মধ্যে আমাকে সফল তথ্য প্রদান করবেন অথচ আজ অবধি কোন তথ্যই তিনি দিতে পারেননি। আমার কাছে মনে হচ্ছে তথ্য না দেওয়ার জন্য এই চিঠি দেওয়া হয়েছে। আমার জানামতে তথ্য অধিকার আইন অনুসারে প্রতিকপি ফটোকপি পেতে ২ টারা হারে জমাদিতে হয়। আমি এ বিষয়ে আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করব। পাংশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে তথ্য অধিকার আইনে ‘ক’ ফরমে বিভিন্ন তথ্য চেয়ে ১৩ এপ্রিল আবেদন করেন এইচ,এম, শামিম। আবেদনে পাংশা উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থ বছর খরিপ-১, খরিপ-২ ও রবি মৌসুমে কোন কোন প্রকল্পের আওতায় কী কী ফসলের প্রদর্শনী হয়েছে,তার তথ্য চাওয়া হয়। পাশাপাশি প্রকল্পের নাম,প্রদর্শনী হওয়া ফসলের নাম,ফসল অনুসারে প্রদর্শনীর জন্য বরাদ্দ বীজ,সার ও টাকার পরিমান(খাতওয়ারী), কৃষক প্রতি প্রশিক্ষন ভাতা ও নাশতার টাকার পরিমান,প্রদর্শনী পাওয়া কৃষকের নাম,ঠিকানা ও মুঠোফোন নম্বর চাওয়া হয়। এ ছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থ বছর ওই প্রকল্প গুলোর আওতায় কী কী ফসলের প্রদর্শনীর মাঠ দিবসে বরাদ্দের পরিমান(খাত ওয়ারী), মাঠ দিবসে অংশ নেওয়া কৃষকের নাম,ঠিকানা ও মুঠোফোন নম্বর এবং ২০২৫-২৬ পিয়াজ সংরক্ষন মেশিন কতগুলো বিতরন করা হয়। অর্থ বছর কৃষি প্রনোদনা কর্মসূচির আওতায় কোন মাঠে বোরো হাইব্রিড ধানের সমলয় প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, কত বিঘা জমিতে নেওয়া হয়েছে,সুনিদিষ্ট ভাবে খাতওয়ারী বরাদ্দের পরিমান,সুফলভাগী কৃষকের নাম,ঠিকানা ও মুঠোফোন নম্বর চাওয়া হয়েছে।
পাংশা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা ও দায়িত্ব প্রাপ্ত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তোফাজ্জেল হোসেন কে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত অপসারনের দাবি তুলেছেন বৃহওর পাংশা উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি,গন-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ পরিকল্পনা উপদেষ্টা মহোদয় ও রাজবাড়ী-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
শিরোনাম :
রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলায় পাংশায় তথ্য পেতে আবেদনকারীকে টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ
ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ


























