মোঃ জিল্লুর রহমান: ২০২৪ সালের এই দিনে ঘটে যায় বাংলাদেশের রেল ইতিহাসের অন্যতম হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা, যা আজও মানুষের মনে গভীর দাগ কেটে আছে।
শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে যশোরের বেনাপোল থেকে ঢাকাগামী বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাজধানীর সায়দাবাদ এলাকা অতিক্রম করার সময় দুর্বৃত্তরা ট্রেনটিতে আগুন দেয়। আগুন ছড়িয়ে পড়লে গোপীবাগ কাঁচাবাজার এলাকায় ট্রেনটি থামানো হয়।
আগুন লাগার খবর পাওয়া মাত্রই ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এ সময় স্থানীয় মানুষজনও নিজেদের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধারকাজে অংশ নেন।
ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডে ট্রেনের তিনটি বগি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনে দগ্ধ হয়ে আহত হন একাধিক যাত্রী। তবে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে ট্রেনটির ‘চ’ বগিতে, যেখানে একই পরিবারের ছোট্ট শিশু সহ ও চার জন আগুনে দগ্ধ হয়ে ট্রেনের ভেতরেই প্রাণ হারান।
ওই ‘চ’ বগিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ার সময় এক পুরুষ যাত্রী জানালায় ঝুলে থাকতে দেখা যায়। বাইরে থাকা মানুষজন তাকে বারবার বলেন, “নেমে পড়েন, ট্রেনে ভয়াবহ আগুন লেগেছে।”
কিন্তু সেই ব্যক্তি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“আমি বেঁচে থেকে কী করবো ? আমার স্ত্রী-সন্তান মারা গিয়েছে।”
এ সময় বাইরে থাকা একজন ব্যক্তি তার হাত ধরেও টেনে নামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু গভীর শোক ও অসহায়তায় তিনি নামতে রাজি হননি, নামার কোনো চেষ্টাও করেননি। মানুষ তাকে বাঁচাতে চেয়েছিল, কিন্তু তিনি নিজেই আর বাঁচতে চাননি। আগুনের তীব্রতার মধ্যেই নিভে যায় তার জীবন।
এই দৃশ্য উপস্থিত সকলের হৃদয়কে নাড়িয়ে দেয়। মুহূর্তেই ঝরে যায় এক মুঠো স্বপ্ন, থমকে যায় একটি পরিবারের সব আশা।প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিটের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ফায়ার সার্ভিস আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ট্রেন থেকে উদ্ধার করা হয় চারটি মরদেহ। আগুনে দগ্ধ আহত যাত্রীদের দ্রুত উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি বগি পরবর্তীতে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় পাঠানো হয়। বর্তমানে সেখানে বগিগুলোর মেরামত কাজ চলছে। নতুন করে সিট বসানো ও রং করার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। খুব শিগগিরই বগিগুলো আবার রেললাইনে যাত্রীসেবায় ফিরবে।
কিন্তু ফিরবে না সেই চারটি প্রাণ।প্রতি বছর ৫ জানুয়ারি এলেই ফিরে আসে সেই ভয়াল রাত, সেই আগুন, সেই অসহায় আর্তনাদ।এই ট্রাজেডি যেন আর কখনো ফিরে না আসে এটাই আজ সবার প্রার্থনা।




















