Saturday , 11 May 2024
সংবাদ শিরোনাম

লক্ষ্মীপুরে দীপ্ত হত্যায় ১৪ জনের যাবজ্জীবন

লক্ষ্মীপুরে ডাকাতিকালে কলেজছাত্র দীপ্ত পালকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১৪ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ সময় আসামিদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে আরো এক বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

আজ বুধবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নজমুল হুদা তালুকদার এ রায় দেন। রায়ের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। লক্ষ্মীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) আবুল কালাম রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা গ্রামের মাঈন উদ্দিন মানু, রামগঞ্জের লামচর গ্রামের মো. রশিদ, কামরুল ইসলাম রাজু, কালুপুর গ্রামের মো. হোসেন, রসুলপুর গ্রামের সালেহ আহমেদ সুজন, মাঝিরগাঁও গ্রামের সাইফুল ইসলাম সুমন, করপাড়া গ্রামের কামাল, মঞ্জুর আলম, গাজীপুর গ্রামের মহসিন, বদরপুর গ্রামের কামাল হোসেন, পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রামের মিলন হোসেন, মো. ফারুক, সদরের চর লামচী গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম, পশ্চিম লতিফপুর গ্রামের সাহেদুর রহমান কিরন ও উত্তর বাঞ্চানগর গ্রামের অহিদুর রহমান। এরমধ্যে কামরুল ইসলাম রাজু, জাহাঙ্গীর আলম, সাইফুল ইসলাম সুমন, অহিদুর রহমান ও কামাল আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া মামলার আসামি সুজন মৃত্যুবরণ করেছেন। অন্য ‌আট দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি পলাতক।

পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, সদর উপজেলার মধ্য হামছাদী গ্রামে ২০১১ সালের ২ জুলাই রাতে পুলিশ পরিচয়ে মুখোশধারী ২০-২৫ জনের একদল ডাকাত ব্যবসায়ী কার্তিক পালের বসতঘরে ঢোকে। তারা  অস্ত্রের মুখে পরিবারে সদস্যদের জিম্মি করে স্বর্ণালংকার ও টাকা লুটে নেওয়া হয়। এতে বাধা দিলে ব্যবসায়ীর ছেলে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র দীপ্ত পাল ও তার মেঝো ভাই সঞ্জয় পাল কাঞ্চনকে মারধর করে ডাকাতদল।

একপর্যায়ে তারা দুজনকেই গুলি করে। পরে আহতদের উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে আনলে দীপ্তকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। অপর গুলিবিদ্ধ কাঞ্চনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। এ ঘটনায় কার্তিক পাল বাদী হয়ে পরদিন অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত শেষে ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে ২০১৩ সালের ২৮ মার্চ লক্ষ্মীপুর সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) লিটন দেওয়ান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এ মামলায় পুলিশসহ ২২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।

মামলার রায় শোনার পর আদালত প্রাঙ্গণে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাদী কার্তিক পাল। এ সময় তিনি আসামিদের ফাঁসির দাবি জানিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘ন্যায় বিচার পেতে আমি উচ্চ আদালতে যাবো।’

Share!

About newsfair

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top