Dhaka ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কর-বহির্ভূত আয়ের কোনো পৃথক হিসাব দেখানো হয়নি

  • প্রকাশ : ১২:৫৮:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

মোঃ জিল্লুর রহমান: বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীভাড়া, মালামাল পরিবহন, সম্পত্তি ও স্থাপনা ভাড়া থেকে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আদায় হলেও প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কর-বহির্ভূত আয়ের কোনো পৃথক হিসাব দেখানো হয়নি। অথচ একই বাজেটে মন্ত্রণালয়ের জন্য ৯ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, মোট বরাদ্দের মধ্যে পরিচালন ব্যয়ের জন্য ৪ হাজার ৫০১ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য ৫ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে।

বাজেট নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এক সময় রেলওয়ের নিজস্ব আয় আলাদাভাবে বাজেটে উল্লেখ করা হতো। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কর-বহির্ভূত আয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। এর আগের ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ আয়ের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১১৪ কোটি টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে বাড়িয়ে ১ হাজার ২০৮ কোটি টাকা করা হয়েছিল।

তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি বাজেটে রেলের এ আয় আর পৃথকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের মোট ব্যয়ের সঙ্গে সম্ভাব্য আয় সমন্বয় করে নিট ব্যয়ের হিসাব বাজেটে দেখানো হয়। ফলে রেলওয়ের প্রকৃত রাজস্ব আয় কর-বহির্ভূত রাজস্ব খাতে আলাদাভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না।

এদিকে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন হিসেবে বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। রাজধানীর সঙ্গে দেশের সব জেলা ও প্রধান শহরের রেল সংযোগ সম্প্রসারণ, নগরায়ণের সঙ্গে রেলব্যবস্থার সমন্বয়, আন্তঃদেশীয় যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং ইন্টারসিটি কমিউটার ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণ, রেল বিদ্যুতায়ন, আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন চালুর কাজও এগিয়ে চলছে।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ঢাকা-কুমিল্লা অংশে কর্ডলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হয়েছে। কুমিল্লা বাইপাস হয়ে নতুন রুট বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমে ২৪০ কিলোমিটারে নেমে আসবে। এতে যাত্রাসময় বর্তমানের প্রায় ৬ ঘণ্টা থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টায় নামিয়ে আনার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর, বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কুমিল্লা ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোর (আইসিডি) সঙ্গে রেলপথে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। সরকারের মতে, এতে দেশের লজিস্টিকস ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

সরকার নতুন রেলপথ ও স্টেশন নির্মাণ, আধুনিক লোকোমোটিভ, কোচ ও ওয়াগন সংগ্রহ, বিদ্যমান রেলপথ ও সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ জোরদার এবং পাহাড়তলী রেলওয়ে ওয়ার্কশপের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে দেশেই কোচ, লোকোমোটিভ, চাকা, সিগন্যালিং যন্ত্রাংশ ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে।

একই সঙ্গে লাভজনক রুটে বেসরকারি বিনিয়োগ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়ন, ইলেকট্রিক ট্রেন চালু এবং ভবিষ্যতে উচ্চগতির রেল চালুর পরিকল্পনার কথাও বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়েছে।

Share!
ট্যাগ :
সম্পাদকঃ টি·এ·কে আজাদ।


জনপ্রিয় সংবাদ

স্বচ্ছ,গতিশীলও জনমুখী বিচার ব্যবস্থা হয়েছে :আইনমন্ত্রী

আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ।

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কর-বহির্ভূত আয়ের কোনো পৃথক হিসাব দেখানো হয়নি

প্রকাশ : ১২:৫৮:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

মোঃ জিল্লুর রহমান: বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীভাড়া, মালামাল পরিবহন, সম্পত্তি ও স্থাপনা ভাড়া থেকে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আদায় হলেও প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কর-বহির্ভূত আয়ের কোনো পৃথক হিসাব দেখানো হয়নি। অথচ একই বাজেটে মন্ত্রণালয়ের জন্য ৯ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, মোট বরাদ্দের মধ্যে পরিচালন ব্যয়ের জন্য ৪ হাজার ৫০১ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য ৫ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে।

বাজেট নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এক সময় রেলওয়ের নিজস্ব আয় আলাদাভাবে বাজেটে উল্লেখ করা হতো। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কর-বহির্ভূত আয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। এর আগের ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ আয়ের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১১৪ কোটি টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে বাড়িয়ে ১ হাজার ২০৮ কোটি টাকা করা হয়েছিল।

তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি বাজেটে রেলের এ আয় আর পৃথকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের মোট ব্যয়ের সঙ্গে সম্ভাব্য আয় সমন্বয় করে নিট ব্যয়ের হিসাব বাজেটে দেখানো হয়। ফলে রেলওয়ের প্রকৃত রাজস্ব আয় কর-বহির্ভূত রাজস্ব খাতে আলাদাভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না।

এদিকে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন হিসেবে বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। রাজধানীর সঙ্গে দেশের সব জেলা ও প্রধান শহরের রেল সংযোগ সম্প্রসারণ, নগরায়ণের সঙ্গে রেলব্যবস্থার সমন্বয়, আন্তঃদেশীয় যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং ইন্টারসিটি কমিউটার ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণ, রেল বিদ্যুতায়ন, আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন চালুর কাজও এগিয়ে চলছে।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ঢাকা-কুমিল্লা অংশে কর্ডলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হয়েছে। কুমিল্লা বাইপাস হয়ে নতুন রুট বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমে ২৪০ কিলোমিটারে নেমে আসবে। এতে যাত্রাসময় বর্তমানের প্রায় ৬ ঘণ্টা থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টায় নামিয়ে আনার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর, বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কুমিল্লা ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোর (আইসিডি) সঙ্গে রেলপথে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। সরকারের মতে, এতে দেশের লজিস্টিকস ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

সরকার নতুন রেলপথ ও স্টেশন নির্মাণ, আধুনিক লোকোমোটিভ, কোচ ও ওয়াগন সংগ্রহ, বিদ্যমান রেলপথ ও সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ জোরদার এবং পাহাড়তলী রেলওয়ে ওয়ার্কশপের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে দেশেই কোচ, লোকোমোটিভ, চাকা, সিগন্যালিং যন্ত্রাংশ ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে।

একই সঙ্গে লাভজনক রুটে বেসরকারি বিনিয়োগ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়ন, ইলেকট্রিক ট্রেন চালু এবং ভবিষ্যতে উচ্চগতির রেল চালুর পরিকল্পনার কথাও বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়েছে।

Share!