১২:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চলতি বছরের মার্চ মাসে দেশে ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত

  • প্রকাশ : ১২:০১:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে
মোঃ কবির হোসেন:   চলতি বছরের মার্চ মাসে দেশে ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত এবং ২ হাজার ২২১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৬৬ জন নারী এবং ৯৮ জন শিশু। এর মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাতেই প্রাণ গেছে ২০৪ জনের, যা মোট মৃত্যুর ৩৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

শনিবার (১০ এপ্রিল) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৮ দশমিক ০২ শতাংশ। সড়ক দুর্ঘটনায় পথচারী নিহত হয়েছেন ৭৯ জন (১৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ)। চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৬৬ জন (১২ দশমিক ৪০ শতাংশ)।
যানবাহনভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, বাসের যাত্রী ৪৫ জন, ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টরের আরোহী ২৮ জন, প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসের আরোহী ৪৬ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী ৯৪ জন এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের ২৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া বাইসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন ১৩ জন।

সড়কের ধরন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৬৪টি বা ৪৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। জাতীয় মহাসড়কে ১৭১টি, গ্রামীণ সড়কে ৭০টি, শহরের সড়কে ৬২টি এবং অন্যান্য স্থানে ৯টি দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪০ দশমিক ১০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে। এ ছাড়া ২৮ দশমিক ৮১ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ পথচারীকে চাপা দেওয়া, ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ পেছন থেকে আঘাত এবং বাকি ১ দশমিক ৯০ শতাংশ অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৮টি।

সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে সকালে (২৩ দশমিক ২৬ শতাংশ) এবং দুপুরে (২২ দশমিক ৯২ শতাংশ) এবং রাতে দুর্ঘটনার হার ছিল ২১ শতাংশ।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে ১২৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম সিলেট বিভাগে। এই বিভাগে ২৭টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ৪৬টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও ৬৯ জন আহত হয়েছেন।

নিহতদের পেশাগত পরিচয়ে দেখা যায়, শিক্ষক ১৪ জন, সাংবাদিক ৫ জন, চিকিৎসক ২ জন, আইনজীবী ৩ জন, ব্যাংক-বীমা কর্মকর্তা-কর্মচারী ১৭ জন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ৩১ জনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন। এ ছাড়া ৭৯ জন শিক্ষার্থীও নিহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে প্রতিদিন গড়ে ১৫ দশমিক ৪২ জন নিহত হলেও মার্চে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ১৬ জনে, যা প্রায় ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ বেশি। অধিকাংশ দুর্ঘটনার জন্য অতিরিক্ত গতি ও নিয়ন্ত্রণ হারানোকে দায়ী করা হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকের অদক্ষতা ও মানসিক অবস্থা, কর্মঘণ্টা ও বেতনের অনিয়ম, মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচল এবং তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ মোটরসাইকেল চালানো। পাশাপাশি ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের অজ্ঞতাকেও বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

Share!
ট্যাগ :
সম্পাদকঃ টি·এ·কে আজাদ।


জনপ্রিয় সংবাদ

স্বচ্ছ,গতিশীলও জনমুখী বিচার ব্যবস্থা হয়েছে :আইনমন্ত্রী

দেশের আন্তঃনগর ট্রেনে স্টারলিংক ইন্টারনেট চালুর উদ্যোগ, বাস-ফেরিতেও চালুর পরিকল্পনা

চলতি বছরের মার্চ মাসে দেশে ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত

প্রকাশ : ১২:০১:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
মোঃ কবির হোসেন:   চলতি বছরের মার্চ মাসে দেশে ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত এবং ২ হাজার ২২১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৬৬ জন নারী এবং ৯৮ জন শিশু। এর মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাতেই প্রাণ গেছে ২০৪ জনের, যা মোট মৃত্যুর ৩৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

শনিবার (১০ এপ্রিল) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৮ দশমিক ০২ শতাংশ। সড়ক দুর্ঘটনায় পথচারী নিহত হয়েছেন ৭৯ জন (১৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ)। চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৬৬ জন (১২ দশমিক ৪০ শতাংশ)।
যানবাহনভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, বাসের যাত্রী ৪৫ জন, ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টরের আরোহী ২৮ জন, প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসের আরোহী ৪৬ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী ৯৪ জন এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের ২৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া বাইসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন ১৩ জন।

সড়কের ধরন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৬৪টি বা ৪৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। জাতীয় মহাসড়কে ১৭১টি, গ্রামীণ সড়কে ৭০টি, শহরের সড়কে ৬২টি এবং অন্যান্য স্থানে ৯টি দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪০ দশমিক ১০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে। এ ছাড়া ২৮ দশমিক ৮১ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ পথচারীকে চাপা দেওয়া, ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ পেছন থেকে আঘাত এবং বাকি ১ দশমিক ৯০ শতাংশ অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৮টি।

সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে সকালে (২৩ দশমিক ২৬ শতাংশ) এবং দুপুরে (২২ দশমিক ৯২ শতাংশ) এবং রাতে দুর্ঘটনার হার ছিল ২১ শতাংশ।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে ১২৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম সিলেট বিভাগে। এই বিভাগে ২৭টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ৪৬টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও ৬৯ জন আহত হয়েছেন।

নিহতদের পেশাগত পরিচয়ে দেখা যায়, শিক্ষক ১৪ জন, সাংবাদিক ৫ জন, চিকিৎসক ২ জন, আইনজীবী ৩ জন, ব্যাংক-বীমা কর্মকর্তা-কর্মচারী ১৭ জন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ৩১ জনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন। এ ছাড়া ৭৯ জন শিক্ষার্থীও নিহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে প্রতিদিন গড়ে ১৫ দশমিক ৪২ জন নিহত হলেও মার্চে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ১৬ জনে, যা প্রায় ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ বেশি। অধিকাংশ দুর্ঘটনার জন্য অতিরিক্ত গতি ও নিয়ন্ত্রণ হারানোকে দায়ী করা হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকের অদক্ষতা ও মানসিক অবস্থা, কর্মঘণ্টা ও বেতনের অনিয়ম, মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচল এবং তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ মোটরসাইকেল চালানো। পাশাপাশি ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের অজ্ঞতাকেও বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

Share!