Dhaka ১১:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদ্মাকন্যা খ্যাত রাজবাড়ী শহরের উপকণ্ঠে গড়ে উঠেছে পর্যটনকেন্দ্র। দিন দিন বাড়ছে দর্শনার্থীদের ভিড়

  • প্রকাশ : ০২:১৩:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

শেখ জাহিদ বিন আজিমঃ-    পদ্মাকন্যা খ্যাত রাজবাড়ী শহরের উপকণ্ঠে গড়ে উঠেছে পর্যটনকেন্দ্র। দিন দিন বাড়ছে দর্শনার্থীদের ভিড়। একটু নিরিবিলি সময় কাটাতে ও নদীরে হিমেল বাতাস উপভোগ করতে সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের গোদার বাজারের এই পর্যটনকেন্দ্রে এসে সময় কাটান দর্শনার্থীরা।

রাজবাড়ীতে জেলা প্রশাসক হিসেবে সুলতানা আক্তার যোগদান করার পরেই গোদারবাজার পদ্মা নদীর পারে নজর দেন তিনি। যায়গাটিকে বিনোদনকেন্দ্রে রূপ দিতে ও পর্যটনমুখী করতে তিনি নানান উদ্যোগ নেন। তারই অংশ হিসেবে পদ্মাপারে দর্শনার্থীদের বসার জন্য বেঞ্চ, গোলঘর, ওয়াসব্লক নির্মাণ করেন তিনি। সৌন্দর্য বর্ধণে করা হয়েছে বৃক্ষরোপণ। এ ছাড়া, পদ্মাপারে ‘আই লাভ রাজবাড়ী’ সাইন ও দর্শনার্থীদের বসার জন্য ‘জলকাব্য’ নামের একটি স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেন তিনি। এ ছাড়া, রাতে পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বসানো হয়েছে সোলার লাইট।

গোদার বাজার পদ্মা পারে শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেলে গিয়ে দেখা যায়, পর্যটনকেন্দ্র পদ্মাপুলকে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে এসেছে গোদার বাজার এই পদ্মার পাড়ে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পর্যটনকেন্দ্রটি। এ ছাড়া, পদ্মার পারে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী বিভিন্ন খাবারে দোকান, খেলনার দোকান, কসমেটিকসের দোকান। শিশু ও কিশোরদের বিনোদনের জন্য রয়েছে নাগরদোলা, ইঞ্জিনচালিত ম্যাজিক বোর্টসহ বিভিন্ন প্রকার রাইড।

পদ্মার পারে ঘুরতে আসা কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, গোদারবাজার পদ্মাপার হারানো রূপ ফিরে পেয়েছে। এখানে এসে দেখলাম দর্শনার্থীদের বসার জন্য এখানে বেঞ্চের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেলফি বা ছবি তোলার জন্য এখানে একটি আই লাভ রাজবাড়ী লেখাসম্বলিত একটি অবগুণ্ঠক তৈরি করা হয়েছে। সবাই এখানে এসে ছবি তুলছে। বসার জন্য ‘জলকাব্য’ নামের একটি স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে।

একাধিক দর্শনার্থী জানান, রাজবাড়ীর পদ্মা নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা জলকাব্য শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি প্রকৃতি, নান্দনিকতা ও জনকল্যাণের এক অনন্য সমন্বয়। পদ্মাপারের মানুষের কাছে এটি হয়ে উঠেছে স্বস্তি, বিনোদন এবং সম্ভাবনাময় নতুন ঠিকানা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমাদের অনেকদিনের প্রত্যাশা ছিল পদ্মাপারের গোদারবাজার এলাকায় একটি নান্দনিক বিনোদনকেন্দ্রের, সেটি আমাদের জেলা প্রশাসক স্যার পূরণ করেছেন। তারই চিন্তা-চেতনায় ও উদ্যোগে পদ্মাপার হারানো সৌন্দর্য ফিরে পেয়েছে।

ফুচকা বিক্রেতা সবুজ হোসেন বলেন, গোদারবাজার পদ্মার পারে পর্যটকদের ভীড় বেড়েছে। বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে আমাদের। তবে সারাবছর যাতে এই পদ্মার পারে দর্শনার্থীদের ভীড় থাকে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বলেন, রাজবাড়ীকে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও জীবনমানের দিক থেকে উন্নত জেলায় পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে আমরা এ কাজ করছি। পদ্মাপুলক ও জলকাব্য সেই অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। পদ্মাপারকে মানুষের সময় কাটানোর উপযোগী, স্বাস্থ্যসম্মত ও নান্দনিক স্থানে রূপ দিতে জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদ যৌথভাবে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চলেছে।

Share!
ট্যাগ :
সম্পাদকঃ টি·এ·কে আজাদ।


জনপ্রিয় সংবাদ

স্বচ্ছ,গতিশীলও জনমুখী বিচার ব্যবস্থা হয়েছে :আইনমন্ত্রী

বাগমারায় আদম ব্যবসায়ীর খপ্পরে সর্বশান্ত তিনটি পরিবার

পদ্মাকন্যা খ্যাত রাজবাড়ী শহরের উপকণ্ঠে গড়ে উঠেছে পর্যটনকেন্দ্র। দিন দিন বাড়ছে দর্শনার্থীদের ভিড়

প্রকাশ : ০২:১৩:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

শেখ জাহিদ বিন আজিমঃ-    পদ্মাকন্যা খ্যাত রাজবাড়ী শহরের উপকণ্ঠে গড়ে উঠেছে পর্যটনকেন্দ্র। দিন দিন বাড়ছে দর্শনার্থীদের ভিড়। একটু নিরিবিলি সময় কাটাতে ও নদীরে হিমেল বাতাস উপভোগ করতে সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের গোদার বাজারের এই পর্যটনকেন্দ্রে এসে সময় কাটান দর্শনার্থীরা।

রাজবাড়ীতে জেলা প্রশাসক হিসেবে সুলতানা আক্তার যোগদান করার পরেই গোদারবাজার পদ্মা নদীর পারে নজর দেন তিনি। যায়গাটিকে বিনোদনকেন্দ্রে রূপ দিতে ও পর্যটনমুখী করতে তিনি নানান উদ্যোগ নেন। তারই অংশ হিসেবে পদ্মাপারে দর্শনার্থীদের বসার জন্য বেঞ্চ, গোলঘর, ওয়াসব্লক নির্মাণ করেন তিনি। সৌন্দর্য বর্ধণে করা হয়েছে বৃক্ষরোপণ। এ ছাড়া, পদ্মাপারে ‘আই লাভ রাজবাড়ী’ সাইন ও দর্শনার্থীদের বসার জন্য ‘জলকাব্য’ নামের একটি স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেন তিনি। এ ছাড়া, রাতে পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বসানো হয়েছে সোলার লাইট।

গোদার বাজার পদ্মা পারে শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেলে গিয়ে দেখা যায়, পর্যটনকেন্দ্র পদ্মাপুলকে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে এসেছে গোদার বাজার এই পদ্মার পাড়ে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পর্যটনকেন্দ্রটি। এ ছাড়া, পদ্মার পারে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী বিভিন্ন খাবারে দোকান, খেলনার দোকান, কসমেটিকসের দোকান। শিশু ও কিশোরদের বিনোদনের জন্য রয়েছে নাগরদোলা, ইঞ্জিনচালিত ম্যাজিক বোর্টসহ বিভিন্ন প্রকার রাইড।

পদ্মার পারে ঘুরতে আসা কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, গোদারবাজার পদ্মাপার হারানো রূপ ফিরে পেয়েছে। এখানে এসে দেখলাম দর্শনার্থীদের বসার জন্য এখানে বেঞ্চের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেলফি বা ছবি তোলার জন্য এখানে একটি আই লাভ রাজবাড়ী লেখাসম্বলিত একটি অবগুণ্ঠক তৈরি করা হয়েছে। সবাই এখানে এসে ছবি তুলছে। বসার জন্য ‘জলকাব্য’ নামের একটি স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে।

একাধিক দর্শনার্থী জানান, রাজবাড়ীর পদ্মা নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা জলকাব্য শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি প্রকৃতি, নান্দনিকতা ও জনকল্যাণের এক অনন্য সমন্বয়। পদ্মাপারের মানুষের কাছে এটি হয়ে উঠেছে স্বস্তি, বিনোদন এবং সম্ভাবনাময় নতুন ঠিকানা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমাদের অনেকদিনের প্রত্যাশা ছিল পদ্মাপারের গোদারবাজার এলাকায় একটি নান্দনিক বিনোদনকেন্দ্রের, সেটি আমাদের জেলা প্রশাসক স্যার পূরণ করেছেন। তারই চিন্তা-চেতনায় ও উদ্যোগে পদ্মাপার হারানো সৌন্দর্য ফিরে পেয়েছে।

ফুচকা বিক্রেতা সবুজ হোসেন বলেন, গোদারবাজার পদ্মার পারে পর্যটকদের ভীড় বেড়েছে। বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে আমাদের। তবে সারাবছর যাতে এই পদ্মার পারে দর্শনার্থীদের ভীড় থাকে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বলেন, রাজবাড়ীকে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও জীবনমানের দিক থেকে উন্নত জেলায় পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে আমরা এ কাজ করছি। পদ্মাপুলক ও জলকাব্য সেই অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। পদ্মাপারকে মানুষের সময় কাটানোর উপযোগী, স্বাস্থ্যসম্মত ও নান্দনিক স্থানে রূপ দিতে জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদ যৌথভাবে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চলেছে।

Share!