মোঃ জিল্লুর রহমান: সিলেটের রেল যোগাযোগের বর্তমান অবস্থা যাত্রীদের জন্য এক বাস্তব সংকটে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ সিলেট শহর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাত্রা করেন। কিন্তু ট্রেনের দেরি, যাত্রী ভোগান্তি, প্রশাসনিক জটিলতা এবং জোড়াতালি দিয়ে রেল পরিচালনার কারণে রেলসেবা এখন যাত্রীদের আস্থা হারাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ট্রেন দুর্ঘটনা যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে। উদয়ন এক্সপ্রেসের লাইনচ্যুতি এবং শায়েস্তাগঞ্জে পারাবত এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন বিকল হওয়ার ঘটনায় রেলের অব্যবস্থাপনা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের সূত্রে জানা গেছে, সিলেট থেকে প্রতিদিন মোট ছয়টি ট্রেন ছেড়ে যায়। ঢাকাগামী চারটি ট্রেন হলো- কালনী এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, জয়ন্তীকা এক্সপ্রেস ও উপবন এক্সপ্রেস। চট্টগ্রামগামী দুটি ট্রেন হলো- উদয়ন এক্সপ্রেস ও পাহাড়িকা এক্সপ্রেস। একইভাবে, ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকেও সমান সংখ্যক ট্রেন সিলেটে আসে।
রেলের আরেকটি সূত্র জানায়, সিলেট অঞ্চলের রেললাইন খারাপ থাকার অজুহাতে প্রতিটি ট্রেনের বগির সংখ্যা কমানো হয়েছে। সাধারণত দেশের ট্রেনে ১৬টির বেশি বগি থাকে, কিন্তু সিলেটে তা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে রেলের ওপর চাপ কমে। মাঝে মাঝে অতিরিক্ত বগি যোগ করা হলেও তাতে ভাড়া বেড়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, সিলেট থেকে ঢাকাগামী নন-এসি টিকিটের ভাড়া সাধারণত ৩৭৫ টাকা, কিন্তু অতিরিক্ত বগিতে তা বেড়ে হয় ৪৫০ টাকা। এ সময় এসি ভাড়া ৭১৯ টাকা থেকে বেড়ে ৯৪০ টাকা পর্যন্ত হয়। ফলে যাত্রীদের অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে।



















