০৩:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দলীয় শৃঙ্খলা ফেরাতে আরো কঠোর হচ্ছে বিএনপি

  • প্রকাশ : ০১:৫০:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ১ বার পড়া হয়েছে
টি.এ.কে আজাদ:    দলীয় শৃঙ্খলা ফেরাতে আরো কঠোর হচ্ছে বিএনপি। দলের সুনাম ক্ষুণ্ন হয় এমন অভিযোগ যে পর্যায়ের নেতার বিরুদ্ধেই উঠুক না কেন কোনো ছাড় নয়। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কঠোর হচ্ছে বিএনপি। দলের শৃঙ্খলা রক্ষায় কাউকে ছাড় দিচ্ছে না।

তিনি বলেন, “এ বিষয়ে বিএনপি এবং এর নেতারা ‘আপসহীন’ এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘একেবারে জিরো টলারেন্স’ নীতিতে আছেন।

বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ঘিরে সরকারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে চান। দলের এমন মনোভাবের মধ্যে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে উঠেপড়ে লেগেছে একটি ষড়যন্ত্রকারী মহল।

নেতারা জানান, অনেক বাজার-বন্দরে বিএনপির তরফ থেকে মাইকিং করে চাঁদাবাজদের রুখে দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। দলের কেউ জড়িত থাকলে প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। তারা বলছেন, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বিএনপির কিছু বিভ্রান্ত নেতাকর্মী মনে করছেন ক্ষমতার করিডরের কাছাকাছি চলে এসেছেন। অনেকে নিজ নিজ এলাকায় আস্তানা গেড়েছেন। নিজেদের বলয় বৃদ্ধি করে মুহূর্তেই প্রভাবশালী বনে গেছেন। সাংগঠনিক নিয়ম-নির্দেশনা কিংবা শৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করে নিজেরাই করছেন এলাকার বিচার-সালিশ। যেখান থেকে আদায় করে নিচ্ছেন মোটা অঙ্কের অর্থ। দেশের কোথাও না কোথাও পূর্বশত্রুতা পারিবারিক কিংবা রাজনৈতিক কলহের জেরে জমি, ব্যবসাবাণিজ্য দখল, অর্থ আত্মসাতের ঘটনা রোজই ঘটছে। বিএনপি এসব বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া মাত্র তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। কোথাও সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীকে আইনের হাতেও তুলে দিচ্ছে।

বিএনপির দপ্তর থেকে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর থেকে এসব ঘটনায় দলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের প্রায় ৩ হাজার ২০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপির নেতাকর্মী রয়েছেন ১ হাজার ৮০০ জন। এদের মধ্যে ৮০০ জনকে বহিষ্কার, ৫০ জনের পদ স্থগিত, অন্তত ৭০০ জনকে কারণ দর্শানো নোটিস, ১০০ জনকে সতর্ক এবং ১৫০ জনকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের নোটিস দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও আরও অনেকের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ছাত্রদল এখন পর্যন্ত ৪০০ জনকে বহিষ্কার ও ৬ শতাধিক নেতা-কর্মীকে কারণ দর্শানো নোটিস দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক দলের অন্তত ১০০ নেতা-কর্মী বহিষ্কার ও ১৫০ জন কারণ দর্শানো নোটিস পেয়েছেন, যুবদলেরও শতাধিক নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, আবেদনের ভিত্তিতে অনেকের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারও করা হচ্ছে।

ক্লিন ইমেজধারী-ত্যাগীদের মনোনয়ন দেবে বিএনপি : বিএনপি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে। দখলদারি, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত নেতারা যত প্রভাবশালীই হোন না কেন, তাদের কোনোভাবেই দলীয় টিকিট দেওয়া হবে না। তারেক রহমান ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে সতর্ক করে দিয়েছেন, আগামী নির্বাচন হবে অত্যন্ত কঠিন এবং এ নির্বাচনে দলকে জনগণের আস্থার ভিত্তিতেই জয়লাভ করতে হবে। সেই লক্ষ্যে দলীয় ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পারে এমন কাউকে মনোনয়ন থেকে দূরে রাখার বিষয়ে তিনি শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন।

Share!
ট্যাগ :
সম্পাদকঃ টি·এ·কে আজাদ।


জনপ্রিয় সংবাদ

স্বচ্ছ,গতিশীলও জনমুখী বিচার ব্যবস্থা হয়েছে :আইনমন্ত্রী

দেশের আন্তঃনগর ট্রেনে স্টারলিংক ইন্টারনেট চালুর উদ্যোগ, বাস-ফেরিতেও চালুর পরিকল্পনা

দলীয় শৃঙ্খলা ফেরাতে আরো কঠোর হচ্ছে বিএনপি

প্রকাশ : ০১:৫০:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
টি.এ.কে আজাদ:    দলীয় শৃঙ্খলা ফেরাতে আরো কঠোর হচ্ছে বিএনপি। দলের সুনাম ক্ষুণ্ন হয় এমন অভিযোগ যে পর্যায়ের নেতার বিরুদ্ধেই উঠুক না কেন কোনো ছাড় নয়। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কঠোর হচ্ছে বিএনপি। দলের শৃঙ্খলা রক্ষায় কাউকে ছাড় দিচ্ছে না।

তিনি বলেন, “এ বিষয়ে বিএনপি এবং এর নেতারা ‘আপসহীন’ এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘একেবারে জিরো টলারেন্স’ নীতিতে আছেন।

বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ঘিরে সরকারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে চান। দলের এমন মনোভাবের মধ্যে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে উঠেপড়ে লেগেছে একটি ষড়যন্ত্রকারী মহল।

নেতারা জানান, অনেক বাজার-বন্দরে বিএনপির তরফ থেকে মাইকিং করে চাঁদাবাজদের রুখে দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। দলের কেউ জড়িত থাকলে প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। তারা বলছেন, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বিএনপির কিছু বিভ্রান্ত নেতাকর্মী মনে করছেন ক্ষমতার করিডরের কাছাকাছি চলে এসেছেন। অনেকে নিজ নিজ এলাকায় আস্তানা গেড়েছেন। নিজেদের বলয় বৃদ্ধি করে মুহূর্তেই প্রভাবশালী বনে গেছেন। সাংগঠনিক নিয়ম-নির্দেশনা কিংবা শৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করে নিজেরাই করছেন এলাকার বিচার-সালিশ। যেখান থেকে আদায় করে নিচ্ছেন মোটা অঙ্কের অর্থ। দেশের কোথাও না কোথাও পূর্বশত্রুতা পারিবারিক কিংবা রাজনৈতিক কলহের জেরে জমি, ব্যবসাবাণিজ্য দখল, অর্থ আত্মসাতের ঘটনা রোজই ঘটছে। বিএনপি এসব বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া মাত্র তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। কোথাও সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীকে আইনের হাতেও তুলে দিচ্ছে।

বিএনপির দপ্তর থেকে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর থেকে এসব ঘটনায় দলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের প্রায় ৩ হাজার ২০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপির নেতাকর্মী রয়েছেন ১ হাজার ৮০০ জন। এদের মধ্যে ৮০০ জনকে বহিষ্কার, ৫০ জনের পদ স্থগিত, অন্তত ৭০০ জনকে কারণ দর্শানো নোটিস, ১০০ জনকে সতর্ক এবং ১৫০ জনকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের নোটিস দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও আরও অনেকের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ছাত্রদল এখন পর্যন্ত ৪০০ জনকে বহিষ্কার ও ৬ শতাধিক নেতা-কর্মীকে কারণ দর্শানো নোটিস দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক দলের অন্তত ১০০ নেতা-কর্মী বহিষ্কার ও ১৫০ জন কারণ দর্শানো নোটিস পেয়েছেন, যুবদলেরও শতাধিক নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, আবেদনের ভিত্তিতে অনেকের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারও করা হচ্ছে।

ক্লিন ইমেজধারী-ত্যাগীদের মনোনয়ন দেবে বিএনপি : বিএনপি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে। দখলদারি, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত নেতারা যত প্রভাবশালীই হোন না কেন, তাদের কোনোভাবেই দলীয় টিকিট দেওয়া হবে না। তারেক রহমান ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে সতর্ক করে দিয়েছেন, আগামী নির্বাচন হবে অত্যন্ত কঠিন এবং এ নির্বাচনে দলকে জনগণের আস্থার ভিত্তিতেই জয়লাভ করতে হবে। সেই লক্ষ্যে দলীয় ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পারে এমন কাউকে মনোনয়ন থেকে দূরে রাখার বিষয়ে তিনি শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন।

Share!