Dhaka ০৯:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্র্যাক এনজিও এর শতকরা ১৪% সুদ নেয়ার জায়গায় প্রায় সঞ্চয় সহ হিসেব করলে ৩৬.৮৭% নেয়ার অভিযোগ

  • প্রকাশ : ১০:৪১:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৬
  • ৩৭ বার পড়া হয়েছে

রংপুর (বদরগঞ্জ) রিপোর্টার ঃ
রংপুর জেলার অধীস্তন বদরগঞ্জ উপজেলা। আর এই উপজেলাতে ব্র্যাক এনজিও-র সুদের হার কত তা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিগত কয়েক যুগ ধরে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে গন্য হয়ে আসছে। তাছাড়া বর্তমান সরকারের তথা রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল হক চৌধুরী ডিউকের অক্লান্ত পরিশ্রমে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ কার্যক্রম বদরগঞ্জকে রূপায়িত করেছে। ব্যাংক, বীমা, অফিস, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, হাট-বাজার শিশুদের জন্য উদ্যান সব মিলিয়ে বদরগঞ্জকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে আখ্যা দিলেও ভুল হবে না। এ অঞ্চলের গড়ে ৭০-৭২% মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। তাছাড়া এ অঞ্চলের মাটি এতই উর্বর যে বছরের ১৫ দিনেও কোন কৃষি জমি পড়ে থাকে না। তবে শুধুমাত্র একটি ক্ষেত্রে এ অঞ্চলের মানুষ একটু পিছিয়ে আছে, তা হল শিক্ষা। অবশ্য বর্তমান স্থানীয় এমপি এর প্রতিকারে বয়স্ক শিক্ষার পরিবেশ চালু করেছেন। আমরা আপাতত বদরগঞ্জের উন্নয়ন নিয়ে আর মাথা ঘামাতে চাই না। বরং ব্র্যাকের কিছু কার্যক্রমের উপর আলোকপাত করতে চাই। যেমন ব্র্যাকের মাইক্রোক্রেডিট ঋণ পলিসির লক্ষ্য হচ্ছে কোন রকম জামানত ছাড়াই গরীব-অসহায় মানুষকে সাবলম্বী করতে স্বল্প সুদে ঋণ দিয়ে কর্মের ক্ষেত্র তৈরী করে তার উপর নিরীক্ষা করা। কিন্তু স্থানীয় সূত্র ও বিভিন্ন তথ্য মাধ্যম থেকে জানা যায়, ঋণ দেয়ার সময় উক্ত এনজিও শতকরা ১৪% সুদ নেয়ার কথা বললেও বাস্তবে প্রায় ৩৬.৮৭% সুদ নিচ্ছে দাবী গ্রাহকদের। তবে কি এটার নাম জনসেবা নাকি জনদূর্ভোগ? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্র্যাকের একজন গ্রাহক অভিযোগ করে আমাদের প্রতিনিধিকে বলেন, ভাই কে বলে জামানত নাই? ঋণ দেয়ার সময় এ ব্র্যাক এনজিও স্ট্যাম্পে ডিড, ব্লাঙ্ক চেক, ভিটেমাটির দলিল এমনকি তার স্ত্রীর ছবি ও স্বাক্ষর নিয়েছে। তবে কি হল? কোথায় মানবাধিকার সংস্থাগুলো। স্বামীর লোনের কারণে কেন স্ত্রীর ছবি দিতে হবে? অথচ প্রশাসনের নিরবতা। আমরা আপাতত নিরবতা নিয়ে কথা বলতে চাই না? আমরা আপাতত মানবাধিকার কমিশন নিয়েও কথা বলতে চাই না। শুধু বলতে চাই এ লজ্জা রাখার জায়গা কোথায়? যদি কোন গ্রাহক ব্র্যাকের ঋণ নিয়ে ব্যবসা করে তবে তাকে শতকরা কত % টাকা আয় করতে হবে। কারণ ৩৬.৮৭% সুদ দেয়ার পর তার পরিবারের ভরণ-পোষণের জন্যও তো কিছু টাকার দরকার আছে। ধরা যাক সেই টাকা/খরচের পরিমাণ ১৪.০৩ টাকা। তাহলে সব মিলিয়ে সুদ/খরচ দাড়াল ৫০ টাকা। এখন কথা হল আমাদের দেশে এমনকি ব্যবসা আছে যে ব্যবসাতে শতকরা ১০০ টাকা খাটালে ৫০ টাকা লাভ হয়। অর্থাৎ এটা তথা পৃথিবীতে কোথাও সম্ভব নয়। তাছাড়া ক্ষুদ্র ঋণ দেয়ার লেবাস লাগিয়ে গ্রাহককে লাখ লাখ টাকা ঋণ দিচ্ছে এ এনজিও কেমন করে?  এটা কি আমাদের প্রবিধানমালার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? তাই বদরগঞ্জের আপামর জনতা এই লাগামহীন সংস্থাকে এখনই লাগাম টেনে ধরার দাবি জানাচ্ছে। তাছাড়া বদরগঞ্জের স্থানীয় সুশীল সমাজের দাবি একটি উচ্চ ক্ষমতাসমম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করে উক্ত এনজিওর ঋণ দান কর্মসূচীতে কোন অনিয়ম হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখার আহবান জানাচ্ছে ও তার পাশাপাশি ব্র্যাকের মাইক্রোক্রেডিট পলিসির সুদের হার ক্রমহাসমান শব্দের অর্থ ও সর্বনি¤œ কত টাকাকে ক্ষুদ্র টাকা বলে গন্য করা হবে তার ব্যাখ্যার দাবী জানাচ্ছে

Share!
ট্যাগ :
সম্পাদকঃ টি·এ·কে আজাদ।


জনপ্রিয় সংবাদ

স্বচ্ছ,গতিশীলও জনমুখী বিচার ব্যবস্থা হয়েছে :আইনমন্ত্রী

এনসিপিকে আমার পছন্দ কারণ এটা ব্লুমিং পলিটিক্যাল পার্টি : মোনামি

ব্র্যাক এনজিও এর শতকরা ১৪% সুদ নেয়ার জায়গায় প্রায় সঞ্চয় সহ হিসেব করলে ৩৬.৮৭% নেয়ার অভিযোগ

প্রকাশ : ১০:৪১:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

রংপুর (বদরগঞ্জ) রিপোর্টার ঃ
রংপুর জেলার অধীস্তন বদরগঞ্জ উপজেলা। আর এই উপজেলাতে ব্র্যাক এনজিও-র সুদের হার কত তা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিগত কয়েক যুগ ধরে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে গন্য হয়ে আসছে। তাছাড়া বর্তমান সরকারের তথা রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল হক চৌধুরী ডিউকের অক্লান্ত পরিশ্রমে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ কার্যক্রম বদরগঞ্জকে রূপায়িত করেছে। ব্যাংক, বীমা, অফিস, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, হাট-বাজার শিশুদের জন্য উদ্যান সব মিলিয়ে বদরগঞ্জকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে আখ্যা দিলেও ভুল হবে না। এ অঞ্চলের গড়ে ৭০-৭২% মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। তাছাড়া এ অঞ্চলের মাটি এতই উর্বর যে বছরের ১৫ দিনেও কোন কৃষি জমি পড়ে থাকে না। তবে শুধুমাত্র একটি ক্ষেত্রে এ অঞ্চলের মানুষ একটু পিছিয়ে আছে, তা হল শিক্ষা। অবশ্য বর্তমান স্থানীয় এমপি এর প্রতিকারে বয়স্ক শিক্ষার পরিবেশ চালু করেছেন। আমরা আপাতত বদরগঞ্জের উন্নয়ন নিয়ে আর মাথা ঘামাতে চাই না। বরং ব্র্যাকের কিছু কার্যক্রমের উপর আলোকপাত করতে চাই। যেমন ব্র্যাকের মাইক্রোক্রেডিট ঋণ পলিসির লক্ষ্য হচ্ছে কোন রকম জামানত ছাড়াই গরীব-অসহায় মানুষকে সাবলম্বী করতে স্বল্প সুদে ঋণ দিয়ে কর্মের ক্ষেত্র তৈরী করে তার উপর নিরীক্ষা করা। কিন্তু স্থানীয় সূত্র ও বিভিন্ন তথ্য মাধ্যম থেকে জানা যায়, ঋণ দেয়ার সময় উক্ত এনজিও শতকরা ১৪% সুদ নেয়ার কথা বললেও বাস্তবে প্রায় ৩৬.৮৭% সুদ নিচ্ছে দাবী গ্রাহকদের। তবে কি এটার নাম জনসেবা নাকি জনদূর্ভোগ? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্র্যাকের একজন গ্রাহক অভিযোগ করে আমাদের প্রতিনিধিকে বলেন, ভাই কে বলে জামানত নাই? ঋণ দেয়ার সময় এ ব্র্যাক এনজিও স্ট্যাম্পে ডিড, ব্লাঙ্ক চেক, ভিটেমাটির দলিল এমনকি তার স্ত্রীর ছবি ও স্বাক্ষর নিয়েছে। তবে কি হল? কোথায় মানবাধিকার সংস্থাগুলো। স্বামীর লোনের কারণে কেন স্ত্রীর ছবি দিতে হবে? অথচ প্রশাসনের নিরবতা। আমরা আপাতত নিরবতা নিয়ে কথা বলতে চাই না? আমরা আপাতত মানবাধিকার কমিশন নিয়েও কথা বলতে চাই না। শুধু বলতে চাই এ লজ্জা রাখার জায়গা কোথায়? যদি কোন গ্রাহক ব্র্যাকের ঋণ নিয়ে ব্যবসা করে তবে তাকে শতকরা কত % টাকা আয় করতে হবে। কারণ ৩৬.৮৭% সুদ দেয়ার পর তার পরিবারের ভরণ-পোষণের জন্যও তো কিছু টাকার দরকার আছে। ধরা যাক সেই টাকা/খরচের পরিমাণ ১৪.০৩ টাকা। তাহলে সব মিলিয়ে সুদ/খরচ দাড়াল ৫০ টাকা। এখন কথা হল আমাদের দেশে এমনকি ব্যবসা আছে যে ব্যবসাতে শতকরা ১০০ টাকা খাটালে ৫০ টাকা লাভ হয়। অর্থাৎ এটা তথা পৃথিবীতে কোথাও সম্ভব নয়। তাছাড়া ক্ষুদ্র ঋণ দেয়ার লেবাস লাগিয়ে গ্রাহককে লাখ লাখ টাকা ঋণ দিচ্ছে এ এনজিও কেমন করে?  এটা কি আমাদের প্রবিধানমালার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? তাই বদরগঞ্জের আপামর জনতা এই লাগামহীন সংস্থাকে এখনই লাগাম টেনে ধরার দাবি জানাচ্ছে। তাছাড়া বদরগঞ্জের স্থানীয় সুশীল সমাজের দাবি একটি উচ্চ ক্ষমতাসমম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করে উক্ত এনজিওর ঋণ দান কর্মসূচীতে কোন অনিয়ম হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখার আহবান জানাচ্ছে ও তার পাশাপাশি ব্র্যাকের মাইক্রোক্রেডিট পলিসির সুদের হার ক্রমহাসমান শব্দের অর্থ ও সর্বনি¤œ কত টাকাকে ক্ষুদ্র টাকা বলে গন্য করা হবে তার ব্যাখ্যার দাবী জানাচ্ছে

Share!