মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও গণআন্দোলনের একজন দূরদর্শী নেতা, বাঙালি জাতিসত্তা বিকাশের অন্যতম কারিগর। তিনি পঞ্চাশের দশকেই অনুধাবন করেছিলেন যে, পাকিস্তানের অংশ হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান একটি অচল রাষ্ট্রকাঠামো। ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দের কাগমারী সম্মেলনে তিনি পাকিস্তানের পশ্চিমা শাসকদের উদ্দেশ্যে “আসসালামু আলাইকুম” বলে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর রাজনৈতিক জীবনে তিনি ১৯৫০ ও ৬০-এর দশকে কৃষক-শ্রমিক-জনগণের অধিকার আদায়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।ব্রিটিশ শাসনবিরোধী আন্দোলন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর অনুসারীরা তাঁকে “লাল মাওলানা” নামেও ডাকতো তার জন্মের পর অল্প বয়সেই নিজ গ্রামে একটি মহামারীতে বাবা-মাকে ও পরিবারের সবাইকে হারানোর পর তিনি একাই বেঁচে থাকেন।
শিক্ষা জীবনে তিনি ছিলেন একজন স্ব-শিক্ষিত ব্যক্তি।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি তার কৈশোর-যৌবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। দীর্ঘদিন তিনি তৎকালীন বাংলা-আসাম প্রদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট গঠনকারী প্রধান নেতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে গঠিত প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতিও ছিলেন।
তিনি রাজনৈতিক দর্শনে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থান এবং জনগণের অধিকারের প্রতি সমর্থন ছিল। তিনি ক্ষমতাকে চেয়েও জনগণের অধিকার আদায়কে বেশি গুরুত্ব দিতেন ও
তিনি কৃষক, শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ গনআন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন।
মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী অধিকারবঞ্চিত, অবহেলিত ও মেহনতি মানুষের অধিকার ও স্বার্থরক্ষায় আজীবন নিরবচ্ছিন্নভাবে সংগ্রাম করে গেছেন। জাতীয় সংকটে জনগণের পাশে থেকে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দেশ ও জনগণের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে গেছেন। মাওলানা ভাসানী সবসময় ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিতেন। ক্ষমতার কাছে থাকলেও ক্ষমতার মোহ তাকে কখনো আবিষ্ট করেনি। ব্যক্তি জীবনে তিনি ছিলেন নির্মোহ, অনাড়ম্বর ও অত্যন্ত সাদাসিধে। তার সাধারণ জীবনযাপন এ দেশ ও জনগণের প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রতিফলন। শোষণ ও বঞ্চনাহীন, প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের জন্য মাওলানা ভাসানী আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। মাওলানা ভাসানী ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বরে এই দিনে ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এই মহান নেতার ৪৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাংলাদেশ একাত্তর পার্টি’র সাধারণ সম্পাদক, মো:নাজিম হোসেন তিনি বলেন, মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আমি তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। মওলানা ভাসানী আমাদের বাঙালি জাতিসত্তা ও জাতীয় ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ নাম। সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশবাদ ও আধিপত্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের প্রবাদ পুরুষ মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে উপ-মহাদেশের নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের পক্ষে আপোষহীন ও সাহসী নেতৃত্ব দিয়েছেন। মওলানা ভাসানী দেশমাতৃকার মুক্তির পথ প্রদর্শক হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রামে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী ছিলেন এক উজ্জল জ্যোতিষ্ক। তার অবস্থান ছিল শোষণের বিরুদ্ধে এবং শোষিতের পক্ষে।
অধিকার আদায়ে তিনি সর্বদা এদেশের মানুষকে সাহস যুগিয়েছেন তার নির্ভিক ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের দ্বারা। তার হুংকারে অত্যাচারী শাসক ও শোষক গোষ্ঠীর মসনদ কেঁপে উঠতো। জাতীর ভয়াবহ দুর্দিনগুলোতে তিনি জনস্বার্থের পক্ষে থাকতেন বলেই জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছিলেন।
গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় মওলানা ভাসানী সবসময় আমাদের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন। তার অগাধ দেশপ্রেম, দেশ ও জাতির স্বার্থ রক্ষা এবং গণতন্ত্র ও মানবতার শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে যুগ যুগ ধরে আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করবে। তার আদর্শকে সঠিকভাবে অনুসরণ করতে পারলেই আমরা আমাদের অভিষ্ট লক্ষে পৌঁছাতে সক্ষম হবো।
শিরোনাম :
মাওলানা ভাসানীর ৪৯ তম মৃত্যুবার্ষিকীতে একাত্তর পার্টির গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি
ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ



















